
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি শুধু আর্থিক সহায়তা প্রদান নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করার একটি কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি হচ্ছে।
শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট কোনো স্বল্পমেয়াদি বা তাৎক্ষণিক সমাধাননির্ভর বাজেট নয়। বরং এটি বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ।
তিনি জানান, বাজেটে অন্তর্ভুক্ত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবারকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এই অর্থ প্রান্তিক জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামের মুদি দোকান, কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকানসহ ক্ষুদ্র ব্যবসা ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাকে চাঙা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে শহর ও গ্রামের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতেও এ কর্মসূচি সহায়ক হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনা হলেও বর্তমানে অনেকেই এর প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন।
ডিজিটাল যুগে গুজব ও অপপ্রচারকে সামাজিক অস্থিরতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম আরও জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ইতিবাচক জীবনবোধ গড়ে তুলতে মন্ত্রণালয় শর্ট ফিল্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে।
বিনোদন খাতে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের বিনোদনের অধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে দেশের কোটি কোটি মানুষ অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই বিশ্বকাপের খেলা উপভোগ করতে পারছেন।